নাহিদুল ইসলাম নাহিদ, গাজীপুর।
কেয়ার বাংলাদেশ এবং এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজেস বাংলাদেশ যৌথভাবে ২১ মে ২০২৬ তারিখে গাজীপুরে একটি জেলা পর্যায়ের উদ্বোধনী কর্মশালার মাধ্যমে 'জাগরণ' প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে। অনুষ্ঠানে সরকারি প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠন, বেসরকারি খাত, গণমাধ্যম এবং কমিউনিটি নেতারা একত্রিত হয়ে যুব ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, কমিউনিটি-চালিত উন্নয়নের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
জাগরণ প্রকল্প সম্পর্কে,জাগরণ' একটি তিন বছর মেয়াদি উদ্যোগ, যা এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজেস বাংলাদেশ এবং কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পটি এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজেস ওয়ার্ল্ডওয়াইড ই.ভি.-এর সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটি গাজীপুর ও খুলনা জেলার ১২,০০০ তরুণকে লক্ষ্য করে তাদের বাজারমুখী দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির পথ তৈরি করতে চায়।
মূল লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে: ৭,০০০ তরুণকে সফট স্কিল প্রশিক্ষণ, ৩,০০০ তরুণকে বাজারমুখী কারিগরি ও সবুজ দক্ষতা প্রদান, এবং ৫,০০০ তরুণকে কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করা। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের জন্য ১৫টি যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠনকে শক্তিশালী করা হবে। সরাসরি ও পরোক্ষ উপায়ে মোট ৫১,০০০ তরুণ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ মুহূর্তসমূহ কেয়ার বাংলাদেশের নারী ও যুব কর্মসূচির পরিচালক রওনক জাহান কর্মশালার সূচনা করেন এবং সহযোগিতামূলক একটি অর্থবহ দিন পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন। এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজেস বাংলাদেশের উপ-জাতীয় পরিচালক মো. মাসুদ রানা প্রকল্পের দৃষ্টিভঙ্গি ও বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এর রূপান্তরমূলক সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া যুব-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের প্রতি সরকারের দৃঢ় সমর্থন পুনরায় ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সুযোগ দিলে বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং জাতিগঠনে তাদের অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বৈশ্বিক তরুণ উদ্যোক্তাদের সাফল্য এবং বাংলাদেশের ৫ আগস্টের আন্দোলনে উদীয়মান যুব নেতাদের উদাহরণ তুলে ধরেন।
স্থানীয় সরকার উন্নয়নের উপপরিচালক (উপসচিব) আহম্মেদ হোসেন ভূঁইয়া স্মার্ট দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের জন্য বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলকা প্রভা দে 'জাগরণ' নামটির প্রশংসা করেন এবং এটিকে তরুণদের মধ্যে জাগরণ ও সচেতনতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সুযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষসহ সকলকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে কেয়ার বাংলাদেশের উপ-কান্ট্রি ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) এমেবেট মেন্না সকল অংশীজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কমিউনিটি-চালিত উন্নয়নে কেয়ার বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।কর্মশালায় সমাজসেবা অধিদপ্তর ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালকগণ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং স্থানীয় সরকারের উপপরিচালকসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনরাও উপস্থিত ছিলেন।
এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজেস বাংলাদেশ সম্পর্কে এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজেস বাংলাদেশ — ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের গর্বিত প্রাপক — দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশ জুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও পরিবারের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। যারা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনে আছে তাদের যত্ন, শিক্ষা ও সুযোগ প্রদানই এই সংস্থার মূল লক্ষ্য।
কেয়ার বাংলাদেশ সম্পর্কে ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কেয়ার বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মানবিক সংস্থা, যা নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৈশ্বিক দারিদ্র্য নিরসনে কাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেয়ার বাংলাদেশ ৩৬টি জেলায় ৪১টিরও বেশি প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৮ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ৭৪ শতাংশই নারী।