• সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জুলাই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বেঈমানি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন ও বর্তমান সরকার’—দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম আগামী কাল চট্টগ্রামে আসছেন তারেক রহমান, দলীয় এবং প্রশাসনিক ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি দশম গ্রেডের চাকরি, শতকোটি টাকার সম্পদ! রহনপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সায়েমকে ঘিরে তোলপাড়  পথের কাঁটা সরাতে প্রতিপক্ষের নামে ৫০ মামলা  ভারতীয় তরুণীর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল, জামালপুরে কলেজছাত্র গ্রেপ্তার প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন না হলে আত্মহত্যা করার হুমকি সিলেটের গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার চারখাই জকিগঞ্জ সড়কের অংশে বড় বড় গর্ত জন দুর্ভোগ চরমে দোহারে জমি দখলের চেষ্টা, গাছ কর্তন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ পবিত্র উমরাহ পালন করলেন সাধারণ মানুষের বন্ধু কাউন্সিলর পদপ্রার্থী পীরজাদা মো. নওয়াব আলী হানিট্র্যাপের শিকার ব্যবসায়ী শহিদুল, 

রাজবাড়ীর পাংশায় শিক্ষকের বেত্রাঘাতে হাসপাতালে ছাত্র, অবরুদ্ধ শিক্ষক

Reporter Name / ৪৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

মোঃ মেহেদী হাসান বিশ্বাস। পাংশা,রাজবাড়ী।

রাজবাড়ীর পাংশায় পড়া না পারার অভিযোগে মো. তাছিন মুন্সী (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক বেত্রাঘাত করেছেন এক শিক্ষক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আহাদ হোসেনকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।আহত শিক্ষার্থী মো. তাছিন মুন্সী মৌরাট ইউনিয়নের মালঞ্চি এলাকার মো. সবুজ মুন্সীর ছেলে। তিনি বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আহাদ হোসেন কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের খরখরিয়া গ্রামের বাসিন্দা আহম্মদ আলী খানের ছেলে। তিনি বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম ক্লাস চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক পড়া না পারার কারণে তাছিনকে প্রথমে ১০ থেকে ১৫টি বেত্রাঘাত করেন। পরে তাকে শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে ফেলে অমানবিকভাবে লাথি মারেন। এ সময় সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষককে নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে আটকে রাখেন।

আহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী মো. সিয়াম মিয়া বলেন, “স্যার আমাদের পড়া না পারলে দুইটা করে বেত মারেন। কিন্তু তাছিনকে বেশি মারেন। তাছিন তখন বলে, ‘ওদের থেকে আমাকে বেশি মারলেন কেন?’ এরপর স্যার তাকে বেঞ্চের ওপর দাঁড় করিয়ে মারতে থাকেন। পরে মেঝেতে ফেলে লাথিও মারেন। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদেরও মারেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আহাদ হোসেন বলেন, “পড়া না পারার কারণে প্রথমে তাছিনকে মারি। পরে সে আমার মাকে নিয়ে গালাগাল করলে আমি মেজাজ হারিয়ে ফেলি। তবে বুঝতে পারিনি এমন পরিস্থিতি হবে। আমি অনুতপ্ত। আমার ভুল হয়েছে।

আহত শিক্ষার্থীর বাবা মুন্সী জাহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, “খবর পেয়ে এসে দেখি আমার ছেলের পিঠে একাধিক বেত্রাঘাতের দাগ। কয়েকটি স্থান থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। ছেলেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে চিকিৎসার জন্য। আমি জানতে চাই, আমার ছেলের অপরাধ কি এত বড় ছিল যে তাকে এভাবে মারতে হবে?”

মৌরাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো. শাজাহান মণ্ডল বলেন, “খবর পেয়েই বিদ্যালয়ে যাই। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সবাইকে চলে যেতে বলা হয়েছে। যেহেতু প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করেছেন, তাই সবাইকে কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে শিক্ষককে বাড়িতে চলে যেতে বলা হয়েছে।”

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক বলেন, “যে কারণেই হোক, একজন শিক্ষকের এভাবে শিক্ষার্থীকে মারধর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।”


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা