কামাল খান
সিলেটের গোলাপগঞ্জ- বিয়ানীবাজার -চারখাই- জকিগঞ্জ – সড়কের বেশকিছু অংশে বড় বড় গর্ত এবং খানাখন্দে জন দুর্ভোগ চরমে। এছাড়াও শিকপুর-গোলাপগঞ্জ ও ভাদেশ্বর-ঢাকাদক্ষিণ সড়কের একই অবস্থা এ অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চলাচলে প্রতিনিয়ত দুঃখের কারণ হয়ে উঠেছে। যাতায়াতের এসড়কটি তে এক সময় ছিল
জীবনের গতিপথ। আজ তা যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত। পূর্ব সিলেটের মানুষের কাছে সিলেট শহরে পৌঁছানোর এই রাস্তায় যাতায়াত মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়া। দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত , ফাটল, ধেবে যাওয়া আর খানাখন্দে প্রতিদিন চলাচল করছে শত শত মানুষ। আর ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায়
সিলেট-জকিগঞ্জ রোডের বিশেষ করে গোলাপগঞ্জ অংশ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। যেখানে প্রতিটি গর্ত যেন একটি নতুন দুর্ঘটনার ফাঁদ পেতে বসে আছে। বর্ষায় গর্তে জমে থাকা পানি আর কাদার কারণে যানবাহন আটকে পড়ে, তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। আবার শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির দাপটে রাস্তায় চলা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী কেউই রেহাই পাচ্ছেন না এই দুর্ভোগ থেকে।
জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ২০২২ সালের বন্যা পরবর্তী সময়ে আর কোনো ভালো সংস্কার কাজ হয়নি। মাঝে মধ্যে কোনো কোনো স্থানে পাতলা কার্পেটিং বা ইট সলিং করা হলেও বড় কোনো সংস্কার হয়নি এমনটাই
বলছেন স্থানীয়রা। দৈনন্দিন চলাচলে রাস্তার কোথাও কোথাও গর্তের ভেতর পড়ে আটকে যায় গাড়ি। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। অনেক সময় গাড়ি চলতে চলতে বন্ধ হয়ে যায় মাঝপথে। আর চারপাশে গাড়ির ভিড় জমে অস্থিরতা তৈরি হয়। স্কুল কলেজ পড়ুয়া কিংবা বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারী বলেন এই রাস্তায় চলতে চলতে কখন আপন গন্তব্যে পৌছবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কখনো সিএনজির চাকা গর্তে পড়ে আটকে যায়, কখনো আবার
ধুলাবালির মধ্যে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আমরা যেন যুদ্ধ করে প্রতিদিন গন্তব্যে পৌঁছাই। অটোরিকশা চালক জিলু মিয়া বলেন, যানজটে পড়ে অনেক সময় সারাদিন মরে যায় এই ভয়ে সিলেট শহরে যাত্রী নিয়ে এখন আর যাতায়াত করিনা। আবার গাড়ি আটকে গেলে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হন, কিন্তু দোষ তো রাস্তার। গর্তে পড়ে গাড়ি উল্টে যাওয়ার ভয় নিয়েই চলতে হয়। স্থানীয়দের মতে, শুধু গোলাপগঞ্জ নয়,এসড়ক দিয়ে জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, বিয়ানীবাজার, জুড়ীসহ পুরো পূর্ব সিলেট অঞ্চলের কয়েক লক্ষাধিক
মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের পথ। অথচ বছরের পর বছর ধরে তা যেন কারো দেখার কেউ নেই । উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ এলাকার বাসিন্দা সাকিব আল মামুন বলেন, এই রাস্তাটির বেহাল দশা দেখে বুক কাঁপে। প্রতিদিন এই পথে শিক্ষার্থী, রোগী, কর্মজীবী মানুষ চলাচল করে। একজন অসুস্থ রোগী যদি সময়মতো হাসপাতালে না পৌঁছায়, তার মৃত্যুর দায় কে নেবে? এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা কোথায় যায়? এত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তাও যদি বছরের পর বছর
অবহেলিত থাকে, তবে উন্নয়নের সুফল কোথায়? স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, খুব দ্রুত যেন এই সড়কের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। এ রাস্তায় মানুষের দুঃখ-দুর্দশার স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে এখনই। একটি জনপদের উন্নয়নের প্রথম শর্ত হচ্ছে নিরাপদ ও চলনসই যোগাযোগ ব্যবস্থা। পূর্ব সিলেটের মানুষের জন্য এসড়কটি এখন শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি হাজারো মানুষের আশা, স্বপ্ন ও বাঁচার সঙ্গে জড়িত। এই স্বপ্ন ভেঙে পড়ার আগে সংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়া এখন সময়ের দাবি।