নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজধানীর দক্ষিণখান থানার ট্রান্সমিটার এলাকায় হানিট্র্যাপের শিকার, চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও ব্যবসায়িক হয়রানির অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মো. শহীদুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ব আব্দুল্লাহপুরের বেঙ্গল রোড এলাকায় তার একটি এমব্রয়ডারি কারখানা ছিল। প্রায় এক বছর আগে আল মাসুম বিল্লাহ তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। দাবি অনুযায়ী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলামের দাবি, এসব ঘটনার কারণে তিনি কারখানা দক্ষিণখান থানার ট্রান্সমিটার রোড এলাকায় স্থানান্তর করেন। এরপরও গত ২ আগস্ট দুপুরে কারখানার সামনে মব সৃষ্টি করে তাকে পথরোধ করে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গালিগালাজ ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তিনি দক্ষিণখান থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
জানা গেছে, থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও অভিযুক্ত আল মাসুম বিল্লাহ ও নাহার বিল্লাহ বাদী শহিদুলের বাড়িতে গিয়ে মব সৃষ্টি করে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে প্রকাশ্যে শহিদুলকে ও তার পরিবারের সদস্যদের দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করে আসে। এসময় ঘটনাস্থলে কিছু সাংবাদিক উপস্থিত হলে তারা ওখান থেকে পালিয়ে যায়।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে সাংবাদিকরা জানতে পারেন, অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে অনেকে দাবি করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৌশলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা, অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা এবং দলবদ্ধভাবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও স্থানীয়দের কেউ কেউ করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাহার বিল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, শহিদুল ইসলামের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো, তার জন্য আমি আমার স্বামী আল মাসুম বিল্লাহ কে ডিভোর্স দিয়েছি, কিন্তু শহিদুল এখন আমাকে বিয়ে করবে না বলে জানিয়েছেন।
এবিষয়ে আল মাসুম বিল্লাহ ও নাহার বিল্লাহর যে বাড়িতে ভাড়া থাকেন সেই বাড়ির মালিক সাংবাদিকদের বলেন, নাহার বিল্লাহ যদি তার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েই থাকেন তাহলে তারা এখনও একই বাসায় একসাথে থাকে কিভাবে? এটাতো তাহলে বৈধভাবে থাকা সম্ভব না।
এবিয়ে অভিযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর খান জানান, অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্দ করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি এবং নাহার বিল্লাহকে মুঠোফেনে যোগাযোগ করলে তিনি আসবে বলে আর আসেনি। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। আমরা আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।