• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গভীর সুন্দর বন এলাকায় হগল নদীর তীর ভাঙতে শুরু করেছে ভরা বর্ষার আগে ভোলায় গরমে তৃষ্ণার্থ মানুষদের মাঝে কোমল পানি বিতরণ করল জাগরণ ফাউন্ডেশন। অধ‍্যক্ষ আল্লামা সৈয়দ নুরুল মোনাওয়ার আলেম সমাজের অনন‍্য দৃষ্টান্ত- ওরশ মাহফিলে বক্তারা চাটমোহর উপজেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমপি রুমার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারসহ সর্বত্র বাড়ছে মাদক, কিশোর গ্যাং, ধর্ষণ ও লাশের মিছিল: নীরব সমাজ কি অপরাধীদের শক্তি দিচ্ছে?  কুষ্টিয়ার সীমান্ত এলাকায় অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, কার্তুজ ও ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করল বিজিবি সাউথ আফ্রিকা-মরিশাস প্রবাসী সাজুর মানবিক উদ্যোগে এতিমখানায় তিনটি ফ্যান প্রদান গৌরীপুরের হাজী শামছুদ্দিন এর হাত থেকে পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার চায় আলাল গংরা। টেকনাফে এনজিও কর্মীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপ কামনা গোবিন্দগঞ্জে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৩০ বোতল নিষিদ্ধ ফেয়ারডিল’সহ নারীসহ আটক ২ মাদক কারবারি।

পবিপ্রবিতে ভিসিবিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ, উত্তাল ক্যাম্পাসে প্রতিরোধ

Reporter Name / ৩৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

ঢাকা,রিপোর্টার :

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যবিরোধী একটি পক্ষের ডাকা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গতকাল ১১ মে (সোমবার) প্রশাসনিক ভবনের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিরোধের মুখে তা ভেস্তে যায়। আন্দোলনকারীরা সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখেব তালা ঝুলিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এ সময় ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া এবং একাডেমিক পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষক ও তাদের অনুসারীরা সেখান থেকে সরে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি ফ্যাসিস্ট ও ক্রিয়াশিল রাজনীতির সাথে যুক্ত স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিএনপি পন্থী উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, মব সৃষ্টি ও প্রশাসনিক অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, অবৈধ আর্থিক সুবিধা ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সুবিধাভোগী একটি চক্র বর্তমান

প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পথ বেছে নিয়েছে। উপাচার্যের সরকারি সফরে ঢাকায় অবস্থানের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম অচল করার চেষ্টা চালায়।এ চক্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক

ড.মোহাম্মদ আতিকুর রহমান( সাবেক বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা), সাবেক জামায়াত ভিসি আব্দুল লতিফ মাসুমের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত জামায়াতের অধ্যাপক আবুল বাশার খান, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. শাহবুবুল আলম,আওয়ামী পন্থী শিক্ষক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. তাওহিদুল ইসলাম,বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক নেতা প্রফেসর ড. নুরুল আমিন,ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, কর্মকর্তাদের মধ্যে আবুবকর সিদ্দিক, আরিফুর রহমান নোমান, ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার, রাহাত মাহমুদ।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার যখন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও গণমুখী প্রশাসনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সে সময় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “যারা অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ লুটপাট, টেন্ডার থেকে অবৈধ কমিশন গ্রহণ, খামারের মৌসুমি শ্রমিকের নামে ভুয়া বিল উত্তোলন, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এখন তারা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের দুর্নীতি, মব সৃষ্টির অপচেষ্টা কিংবা শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারী ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করবে না। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গরু, কৃষিখামারের উৎপাদিত ধান-ডাল-চাল, লেকের মাছ, হাজার হাজার ডাব, কোটি কোটি টাকার টেন্ডার এবং ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে কোনো ধরনের মব সৃষ্টি, ষড়যন্ত্র কিংবা ফ্যাসিবাদী অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।”

উপাচার্য আরও অভিযোগ করেন, অতীতে জামায়াতপন্থি প্রশাসনের আমলে নিয়োগ পাওয়া সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা বর্তমানে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় একটি জ্ঞানচর্চার স্থান। এখানে ব্যক্তিগত স্বার্থে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করা এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ব্যক্তিস্বার্থের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চক্রের এ ধরনের কর্মসূচি ও সংঘাতের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এতে সেশনজট, পরীক্ষা পেছানো এবং শিক্ষাজীবনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তারা দ্রুত ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চালু রাখার দাবি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা