মোঃ সোহানুর রহমান সোহান মৌলভীবাজার জেলা।
বাংলাদেশ আজ এক গভীর সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যম খুললেই চোখে পড়ে ধর্ষণ, হত্যা, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, চুরি, জুয়া, নারী নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ অপরাধের খবর। কিন্তু এসব অপরাধের গভীরে অনুসন্ধান করলে যে বিষয়টি সবচেয়ে ভয়ংকরভাবে সামনে আসে, সেটি হলো,মাদক।
আজ মাদক শুধু একটি নেশা নয়; এটি সমাজ ধ্বংসের এক ভয়াবহ অস্ত্র হয়ে উঠেছে। মাদক ধীরে ধীরে ধ্বংস করছে তরুণ সমাজ, ভেঙে দিচ্ছে পরিবার, বাড়িয়ে দিচ্ছে অপরাধ, আর সমাজকে ঠেলে দিচ্ছে ভয়ংকর অনিরাপত্তার দিকে।
বিশেষ করে সিলেট বিভাগ ও মৌলভীবাজার জেলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এখন মাদকের বিস্তার দৃশ্যমান। ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল, ট্যাপেন্টাডল ও বিভিন্ন নেশাজাতীয় ট্যাবলেট খুব সহজেই তরুণদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। প্রথমে বন্ধুমহল, এরপর কৌতূহল, তারপর আসক্তি—এভাবেই একজন তরুণ ধীরে ধীরে অপরাধের অন্ধকার জগতে প্রবেশ করছে।
মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক উদ্ধার ও মাদকসেবী আটক হওয়ার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মালামাল, জুয়া, মারামারি ও মাদকসেবনের অভিযোগও বাড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—মাদক এখন শুধু শহরে সীমাবদ্ধ নেই; গ্রামাঞ্চলেও ভয়ংকরভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক এলাকায় সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যে মাদকসেবন ও বখাটেপনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকলেও অনেক সময় ভয় বা সামাজিক চাপে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
গত ৭ দিনের ব্যবধানে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৭টি মরদেহ উদ্ধারের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কোনোটি আত্মহত্যা, কোনোটি রহস্যজনক মৃত্যু, আবার কোনোটি অজ্ঞাত লাশ হিসেবে উদ্ধার হয়েছে। একের পর এক এমন ঘটনা মানুষের মনে ভয় ও প্রশ্ন তৈরি করছে—আমাদের সমাজ কি ধীরে ধীরে সহিংসতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?
একইসঙ্গে নারী ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। কোথাও শিশু, কোথাও কিশোরী, আবার কোথাও নারী নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসছে। এসব অপরা