• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জাল জালিয়াতির মাধ্যমে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের শানবাড়ির এলাকার নিরীহ ব্যক্তিদের জায়গা দখলের অভিযোগে  গভীর সুন্দর বন এলাকায় হগল নদীর তীর ভাঙতে শুরু করেছে ভরা বর্ষার আগে ভোলায় গরমে তৃষ্ণার্থ মানুষদের মাঝে কোমল পানি বিতরণ করল জাগরণ ফাউন্ডেশন। অধ‍্যক্ষ আল্লামা সৈয়দ নুরুল মোনাওয়ার আলেম সমাজের অনন‍্য দৃষ্টান্ত- ওরশ মাহফিলে বক্তারা চাটমোহর উপজেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমপি রুমার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারসহ সর্বত্র বাড়ছে মাদক, কিশোর গ্যাং, ধর্ষণ ও লাশের মিছিল: নীরব সমাজ কি অপরাধীদের শক্তি দিচ্ছে?  কুষ্টিয়ার সীমান্ত এলাকায় অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, কার্তুজ ও ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করল বিজিবি সাউথ আফ্রিকা-মরিশাস প্রবাসী সাজুর মানবিক উদ্যোগে এতিমখানায় তিনটি ফ্যান প্রদান গৌরীপুরের হাজী শামছুদ্দিন এর হাত থেকে পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার চায় আলাল গংরা। টেকনাফে এনজিও কর্মীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপ কামনা

গাজীপুরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের মহোৎসব পর্ব ১ 

Reporter Name / ৪৬ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

শেখ কামরুল হাসান সাহাঃ

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পনগরী গাজীপুরে এখন ভয়াবহ গ্যাস সংকট, অবৈধ সংযোগ ও দুর্নীতির জালে আটকে পড়েছে। শিল্পকারখানা, আবাসিক ভবন, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, ডাইং, ওয়াশিং ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিস্তার ঘটলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে বাড়ছে চাপ, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব।

তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৫ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিনই প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি নিয়ে চলছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পাঞ্চল। অথচ এই সংকটের মধ্যেও থেমে নেই অবৈধ গ্যাস সংযোগের রমরমা বাণিজ্য।

বরং স্থানীয়দের অভিযোগ- প্রতিদিনই নতুন নতুন অবৈধ সংযোগ যোগ হচ্ছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী, আরিচপুর, বৌ বাজার, পাগার, স্টেশন রোড, কলেজ গেইট, মিলগেইট, এরশাদ নগর, বোর্ডবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, শিববাড়ী, ভোগড়া, জয়দেবপুর, রাজেন্দ্রপুর, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, বাইমাইল, সফিপুর, মাওনা, পূবাইল, গাছা, দক্ষিণ সালনা, হোতাপাড়া, কালিয়াকৈর সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের ঘনবসতিপূর্ণ মহল্লাগুলোতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিস্তার সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক বাসায় বৈধভাবে ১ বা ২টি চুলার অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে সেখানে ৮ থেকে ১২টি পর্যন্ত চুলা ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনেক ভবনে বৈধ সংযোগের আড়ালে গোপনে পাইপলাইন টেনে একাধিক ফ্ল্যাট, ভাড়া ইউনিট ও ছোট কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব অতিরিক্ত চুলা ও লাইনের বিপরীতে স্থানীয় দালালদের মাসোহারা দিতে হচ্ছে নিয়মিত।

মাসোহারা দিলেই মিলছে গ্যাস সংযোগ:    এলাকাভিত্তিক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দালাল ও পাইপলাইন মিস্ত্রির মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ নেওয়া হয়। সংযোগপ্রতি কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়। এরপর মাসিক ভিত্তিতে আদায় করা হয় চাঁদা। অভিযোগ রয়েছে, এই টাকার একটি অংশ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ-বাটোয়ারা হয়।

বিশেষ করে টঙ্গী, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর ও বোর্ডবাজার এলাকার বহুতল ভবনগুলোতে বৈধ সংযোগের আড়ালে অবৈধভাবে অতিরিক্ত চুলা ব্যবহার এখন অনেকটাই প্রকাশ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, “মাসোহারা ঠিকমতো পৌঁছালে কোনো সমস্যা হয় না।

শিল্পাঞ্চলেও অবৈধ লাইনের ছড়াছড়ি শুধু আবাসিক নয়, শিল্পাঞ্চলেও অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গাজীপুরের বিভিন্ন ডাইং, ওয়াশিং, গার্মেন্টস, ফুড প্রসেসিং ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানায় অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বার্নার ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে রাতের আঁধারে গোপনে নতুন লাইন স্থাপন করা হয়।

বিশেষ করে টঙ্গীর আউচ পাড়ার মোল্লা বাড়ির তারা টেক্স গার্মেন্টসের পাশের ওয়াশিং ফ্যাক্টরিতে অবৈধ লাইন স্থাপন করা হয়েছে, পাশে রয়েছে আউচ পাড়া খাঁ পাড়া রোডে,খৈরতুল মদিনা পাড়াসহ আশপাশের এলাকা সমূহে অবৈধ গ্যাস সংযোগের মহোৎসব 

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরে ২ হাজারের বেশি বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, ছোট ও অনিবন্ধিত কারখানাসহ প্রকৃত সংখ্যা আরও কয়েক হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশই গ্যাসনির্ভর হওয়ায় সংকটের সুযোগে অবৈধ বাণিজ্য আরও বিস্তার লাভ করেছে।

জাতীয় গ্রিডে ভয়াবহ চাপ: জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ সংযোগের কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বৈধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ পাচ্ছেন না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে ব্যয়, কমছে রপ্তানি সক্ষমতা।

পর্ব ১                                                        বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে যখন গ্যাস সংকট তীব্র, তখন অবৈধ ব্যবহার বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। কারণ অবৈধভাবে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ গ্যাসের কোনো হিসাব সরকার পাচ্ছে না।

তিতাস গ্যাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“গাজীপুরে গ্যাসের চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু সরবরাহ সীমিত। অবৈধ সংযোগের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও প্রভাবশালী মহলের চাপ ও স্থানীয় সিন্ডিকেটের কারণে অনেক সময় স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয় না।

তিনি আরও বলেন, “অনেকেই বৈধ সংযোগ নিয়ে পরে গোপনে অতিরিক্ত লাইন সংযুক্ত করেন। এতে রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি পুরো সিস্টেমের ওপর চাপ বাড়ছে।

 সরকারের হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি:       জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ সংযোগের কারণে সরকার বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অথচ সরকার চাইলে বিশেষ জরিপ, স্মার্ট মিটার ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এসব সংযোগ বৈধ করে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আয় করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল অর্থ দেশের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ সংযোগের এই বাণিজ্য টিকে থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জনমনে প্রশ্ন: যেখানে সরকার গ্যাস সংকটের কথা বলছে, সেখানে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার অবৈধ সংযোগ কীভাবে টিকে থাকে? কারা এই অবৈধ বাণিজ্যের নেপথ্যে? কেন বারবার অভিযানের ঘোষণা এলেও বাস্তবে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে না?

এসব প্রশ্ন এখন গাজীপুরবাসীর মুখে মুখে।সাধারণ মানুষের দাবি: অবিলম্বে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত অভিযান পরিচালনা করে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা