মোঃ আল মাহমুদ জীবন তালুকদার,ছাতক, সুনামগঞ্জ।
পরীক্ষার জন্য বোনের বাড়িতে না থেকে সিএনজি (অটো রিকশা) যোগে বাড়িতে আসার পথে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে ঝরে গেল তৃতীয় শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ইয়ামিন আহমদের (৮) তাজা প্রাণ। সে ছাতকের চরমহল্লা ইউনিয়নের চববাডুকা গ্রামের নিজাম উদ্দিন এর পুত্র এবং চরমহল্লা টেটিয়ার চর পয়েন্টে লতিফিয়া ইসলামিয়া কিন্ডারগার্টেন এর তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। গত ০৮/০৫/২০২৬ ইং শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, মাসহ পরিবারের অন্যদের সাথে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা
ইউনিয়নের নাজিমপুর গ্রামের বড় বোনের ছেলের আকিকা অনুষ্ঠানে গিয়েছিল ইয়ামিন। পরীক্ষার জন্য বোনের বাড়ী না থেকে নম্বরবিহীন সিএনজি (অটোরিকশা) যোগে বাড়িতে আসছিল। পথে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের দামোধরতুপী নোয়া গাঁও নামক স্থানে বেপরোয়া গতির সিএনজির সামনের চাকা ছিটকে সিএনজিটি উল্টে যায়। এতে মাথায় মারাত্মক আঘাত পায় সে। প্রথমে তাকে কৈতক হাসপাতালে এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এক পর্যায়ে তাকে আইসিইউকে স্থানান্তর হয়। সন্ধ্যার পর তার মৃত্যু হয়।
ইয়ামিন পিতা-মাতার ৬ মেয়ের পর একমাত্র ছেলে। তার মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকার শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
লতিফিয়া ইসলামিয়া কিন্ডারগার্টেন এর প্রধান শিক্ষক মাওলানা এনামুল হক বলেন, ইয়ামিনের গতকাল (শনিবার) পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বাড়িতে আসার পথে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। নম্র ভদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী ইয়ামিনের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।
শনিবার আছরের নামাজের পর জানাজাশেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ আব্দুল মুত্তালিব বলেন, সিএনজি অটোরিকশাটি হাইওয়ে পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং চালককে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।